Ramie Fiber (রেমি ফাইবার)

রেমি একটি প্রাকৃতিক উডি ফাইবার (woody fiber)।এটি সবচেয়ে পুরানো তন্তুগুলোর মধ্যে একটি এবং হাজার বছর আগে হতে এটির একটি ঐতিহাসিক ব্যবহার রয়েছে।এটি ২০০০ বছর আগে চীনা কবরের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিলো,সুদূর প্রাচ্যে তুলা চালু হওয়ার অনেক আগে।রেমি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন। এবং প্রধান রপ্তানি কারক দেশ জাপান ও ইউরোপ।এছাড়াও তাইওয়ান, ফিলিপাইন,ব্রাজিলে রেমি উৎপাদন করে একটি ক্ষুদ্রাংশ বাজারে সরবরাহ করে।রেমি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ  চীন।জাপান,জার্মান,যুক্তরাজ্য রেমির প্রধান আমদানি কারক দেশ।চীনে সবচেয়ে বেশি রেমি উৎপাদন হয়,তাই একে “চায়না সাস ক্লথ” বলা হয়।রেমি উদ্ভিদটি একটি পর্যায়ক্রমময় হার্বেস্টিং উদ্ভিদ যা ২-৩ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। 

Properties of ramie fiber(রেমি ফাইবার এর বৈশিষ্ট্য ) 

১.রেমি ফাইবার দৈর্ঘ্যে সাধারণ ৪০ মি.মি.পর্যন্ত লম্বা হয়। 

২.এটি প্রাকৃতিক ভাবে অনেক শক্তিশালী ফাইবার।ভেজা অবস্থায় এর শক্তি আরো বৃদ্ধি পায়। 

৩.এই ফাইবারের বিশেষত্ব হলো ফেব্রিকের আকৃতি ধরে রাখে। 

৪.ফেব্রিকে সিল্কের মতো উজ্জ্বলতা দেয়। 

৫.অন্যান্য ফাইবারের মতো টেকসই না হওয়ার কারনে অন্যান্য ফাইবারের( কটন এবং উল) সাথে এর সাথে ব্লেন্ড করা হয়। 

৬.এটিকে যতো বেশি ধোঁয়া হয় তত বেশি উজ্জ্বল হতে থাকে। 

রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য (chemical properties) : 

১.সেলুলোজ-(৬৮.৬-৭২.২)% 

২.হেমি সেলুলোজ –(১৩.১-১৬.৭)% 

৩.পেকটিন-১.৯% 

৪.মোম-০.৩% 

৫.লিগনিন-(০.৬-০.৮)% 

রেমি ফাইবার এর প্রসেসিং : 

  • রিপালিং(মোটা চিরুনির মতো comb এর ভিতর দিয়ে গাছের বীজ,পাতা,ছোট ডালপালা আলাদা করাকে রিপালিং বলে) 
  • রেটিং(কান্ড থেকে আঁশ সমূহকে সহজে ছাড়ানোর জন্য গাছের বকলগুলোকে পঁচানো যাতে সহজেই কান্ড থেকে  বাকল বা ছাল পৃথক করা যায়।রেটিং ২ ভাবে (ডিউ রেটিং ও ওয়াটার রেটিং)করা যায়। 
  • ওয়াশিং(আঁশগুলোকে ধৌত করা হয়) 
  • ড্রাইং(আঁসমূহকে শুকানো হয়) 
  • স্কুচিং(শুকনো অপদ্রব্য বা ছোট ছোট ডালপালা  আঁশসমূহ থেকে আলাদা করাকে স্কুচিং বলে)। 
  • হেকলিং(আঁশগুলোকে আঁচড়ে সোজা ও সমান্তরাল করা।ছোট ছোট দৈঘ্যের আঁশসমূহকে আলাদা করাকে হেকলিং বলে) 
  • ডিগামিং(রেমি প্রক্রিয়াজাত করনের অন্যতম পদ্ধতি হলো ডিগামিং পদ্ধতি। এতে কিছু প্রকৃতিক আঠালো পদার্থ থাকে।যেমন -গ্রীস,ফ্রুটগাম ও হেমিসেলুলোজ।এসব আঠালো পদার্থ ডিগামিং প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে রেমি ফাইবার তৈরী করে।নিষ্কাশিত ফাইবারের মধ্যে এই গামের পরিমান প্রায় (২৫-৩০)%।ডিগামিং বিক্রিয়ার করনে রেমি ফাইবারের শক্তি,টেনসিটি ক্রমন্বয়ে বৃদ্ধি পায়।ডিগামিং প্রসেসের পর রেমি ফাইবারের রিং কিছুটা হলুদাভ সবুজ থেকে হলুদাভ সাদা হয়। 
  • ক্যামিকেল ডিগামিং(সাধারণত NaOH  ডিগামিং প্রসেসে বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক পদার্থ। কান্ড থেকে ছাড়ানো বাকল গুলো (১-২)% NaOH সংযোগে একটু পাত্রে ১ ঘন্টা তাপ দেয়া হয়।এতে ডিগামিং প্রক্রিয়ার পর অবশিষ্ট উপাদান গুলো থাকে সেগুলো দ্রবীভূত হয়।ক্যামিকেল ডিগামিং প্রক্রিয়ায় রেমি ফাইবার এর অন্যতম উপাদান সেলুলোজ যা অ্যালকালির সংবেদনশীলতায় খুবই কম ক্ষতি হয়।ক্যামিকেল ডিগামিং প্রসেসের পর অতিরিক্ত অ্যালকালি এসিটিক এসিড ট্রিটমেন্ট দ্বারা দ্রবীভূত হয়।যাতে ফাইবার এর শক্তি কমে না যায়।) 
  • ওয়াশিং(এরপর ফাইবার গুলোকে ধৌত করা হয়) 
  • ড্রাইং(আঁশ গুলো শুকানো হয়) 

রেমি ফাইবার এর সুবিধা : 

১.রেমি ফাইবার সুনির্দিষ্ট আকৃতি সম্পন্ন এবং সহজে সংকুচিত হয় না। 

২.এটি মজবুত এবং টেকসই ধরনের।কটনের তুলনায় ৮ গুন ও সিল্কের তুলনায় ৭ গুন বেশি মজবুত হয়ে থাকে। 

৩.রেমি ফাইবার এর ডাইং মোটামুটি সহজ 

৪.সহজেই ব্লিচ করা যায়। 

৫.রেমি ফাইবার এন্টিব্যাকটেরিয়াল অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া,বিভিন্ন ধরনের কীট বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধী। 

৫.লন্ডারিং এর সময় পানির উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।  

রেমি ফাইবার এর অসুবিধা : 

১.রেমি ফাইবার এর স্থিতিস্থাপকতা অনেক কম। 

২.এর ঘর্ষন প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো নয়। 

৩.এর উৎপাদন খরচ অধিক 

৪.সহজেই কুচকে যায়।  

৫.রেমি ফাইবার কিছুটা ভাঙ্গুর প্রকৃতির এবং বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। 

বর্তমানে আমাদের টেক্সটাইল শিল্পে প্রাকৃতিক ফাইবার এর উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পরেছে।ক্রেতা সমাজও বুঝতে শিখেছে প্রাকৃতিক ফাইবার দ্বারা তৈরীকৃত পোশাকের গুরুত্ব। বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে টেক্সটাইল শিল্পে রেমি ফাইবার এর তত টা আধিপত্য না থাকলেও এই রেমি ফাইবার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হওয়া শুরু করেছে। 

রেমি ফাইবার এর ব্যবহার : 

১.এদের ইন্ডাস্টিয়াল সুইং থ্রেড,প্যাকিং উপকরন,ফিশিং নেট তৈরিতে  ও ব্যবহার করা হয়। 

২.ফিল্টার ফেব্রিকের মতো পণ্য তৈরীতে রেমি ব্যবহৃত হয়। 

৩.গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরীতে ও ব্যবহৃত হয়। 

৪.ছোট ছোট ফাইবার গুলো কাগজ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। 

৫.স্যুট,স্কার্ট, জ্যাকেট,শার্ট,ব্লাউজ, প্যান্ট এবং রুমাল সহ পোশাকের জন্য রেমি ফেব্রিক ব্যবহৃত হয়। 

৬. প্যারাসুটের কাপড় তৈরীতে রেমি ফাইবার ব্যবহৃত হয়। 

রেমি ফাইবার ও কটন ফাইবার উভয়ই ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। রেমি ফাইবার  সাধারণ কটন বা সিল্কের সাথে ব্লেন্ড করে ব্যবহার করা হয়।ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ,বিনির্মাণিক এবং ব্যক্তিগত পছন্দ এই ফাইবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারন। 

Likha Akter  
Government  College of applied human science  
Clothing and textile department 

One thought on “Ramie Fiber (রেমি ফাইবার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *