বাংলাদেশ টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস উন্নয়নের ইতিহাস

মানুষের মৌলিক চাহিদা মধ্যে বস্ত্রের অবস্থান দ্বিতীয়। বস্ত্র  দাড়ায় মানুষের শুধুমাএ লজ্জাই নিবারণ হয় না, এ দাড়ায় মানুষের  ব্যক্তিত্বের বিকাশও ঘটে থাকে। তাই সভ্যসমাজে পোশাকের গুরুত্ব অপরিসীম।

 চার দশক আগে যাত্রা শুরু করা তৈরি পোশাক বা আরএমজি শিল্প এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির পাওয়ার হাউস।  বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০% আসে এই খাত থেকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ আরএমজি রপ্তানি থেকে ৩১.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস  শিল্পের ইতিহাস

 বাংলাদেশ প্রথম গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয় ১৯৬০ সালে ঢাকার উদু রোডে,যার নাম রিয়াজ  গার্মেন্টস। তবে ইংরেজি ১৮২৯ সালে প্রথম ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয়।  তবে ৮০ টি সেলাই মেশিন নিয়ে প্যারিস বিশ্বের প্রথম গার্মেন্টস গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু করেন। 

এর পরে ১৯৭৩ সালে, তারা দোকানের নাম পরিবর্তন করে রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড রাখে।১৯৬০ সালে, প্রথমবারের মতো, রিয়াজ গার্মেন্টস  ১,০০০ পিস শার্ট (ইংল্যান্ডে) রপ্তানি করে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের প্রসার শুরু করে। 

 বাংলাদেশে আরএমজি শিল্পের যাত্রা রিয়াজ গার্মেন্টসের মাধ্যমে হলেও প্রয়াত জনাব নূরুল কাদের খান ।  ১৯৭৯  সালে, তিনি ১.৩  মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে দেশ গার্মেন্টস, বাংলাদেশের প্রথম ১০০% রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা স্থাপন করেন।

টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস  পোশাকশিল্পের উন্নয়নের  ইতিহাস 

১৯৪০-১৯৭১সালে দেশে বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল ইন্ডস্ট্রি স্থাপিত হয়। তবে বাংলাদেশ ২০০৪ সালে , গার্মেন্টস শিল্পে  প্রকৃতভাবে উন্নয়ন সাধন করে। তবে ১৯৭১ সালে  Export oriented industrialisation   (EOI) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার টেক্সটাইল সেক্টর কে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে Bangladesh Textile Mills Corporation (BTMC) ১৯৮০ সাথে বাংলাদেশ শুরু দিকে  গার্মেন্টস সেক্টর প্রধান খাত হিসাবে প্রতিষ্ঠতে পায়। ১৯৮০ সালে দিকে Chittagong Export processing Zone প্রতিষ্ঠত হয়।১৯৮২ সালে নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি তৈরি হয়। এর মূল লক্ষ ছিলো বিদেশি বিনিয়োগের উৎসাহিত করা। ১৯৯৫-২০০৫ সালে পযন্ত World Trade Organization (WTO) এর  আওতাধীন    Agreement on Textile and Clothing এর ১০ বছর চুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে লাভবান হয়।

গার্মেন্টস প্রস্তুুতকারক গার্মেন্টস পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রকৃতপক্ষে ১৯৮১-৮২ সালে ০.১বিলিয়ান টাকার রেডি- মেইড গার্মেন্টস রপ্তানি করে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পদচরণ আরম্ভ হয়। উক্ত  সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্পের তেমন কোনো  উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না।  পরবতী ১০ বছরের ব্যবধানে  বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পরিমান ১৯৯১-৯২ সালে ৫৯.৩১ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় এবং ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে মোট রপ্তানির পরিমান ৭৫.৬৭ মিলিয়ান ডলারে  উন্নীত হয়। ২০০৭ সালে রপ্তানি থেকে আয় হয় ১০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে আমেরিকার বাজারে ১০% রপ্তানি বৃদ্ধি করে এবং দেশে বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠে যেমন উইভিং নিটিং স্পিনিং ডাইং প্রিন্টিং ইত্যাদি 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর কে আর উন্নিতি করা লাখে বিভিন্ন ধরনের সংস্থা গড়ে উঠে যেমন BGMEA, BKMEA, BTMC,BTMA ইত্যাদি বতমানে বাংলাদেশ মোট রপ্তানি আয়ের ৮০% এরও বেশি আয় হচ্ছে রেডি- মেইড পোশাক রপ্তানি মাধ্যমে। 

বতমানে বাংলাদেশ প্রায় ৪৫৬০ এর উপরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে,যার মধ্যে ঢাকার ২৪০০ টি,চট্রগ্রাম ৫০০টি , এবং অবশিষ্টগুলো দেশে অন্যান্য স্থানে অবস্থিত। তবে  গার্মেন্টস সেক্টরে বতমানে শ্রমিক, কমচারী দের ৮০ ভাগ মহিলা বতমানে বাংলাদেশ ৩,৫০,০০০টি সেলাই মেশিন আছে

বিশ্ব বাজারে মোট ১১৫ টি গার্মেন্টস ক্যাটাগরি Category  এবং বাংলাদেশ হতে আমেরিকার U.S.A ২০ টি ক্যাটাগরি গার্মেন্টস সরবরাহ করা হয়। আমেরিকায় ৮৪ টি ক্যাটাগরি পোশাক আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ২৮ টি ক্যাটাগরি উপর কোটা আরোপ করা হয়েছে এবং ৫৬ টি ক্যাটাগরির উপর কোনো কোট আরোপ করা হয় নি।ফলে কোটামুক্ত ক্যাটাগরি গার্মেন্টস তৈরি ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ হতে ক্রমাগত   বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লেখক :

মো : মাসুম ইসলাম 
ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার (৩য়) বর্ষ 
রংপুর সিটি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *