দেশে তুলা উৎপাদন অসম্ভব না

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৫৫.৫৫ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলার আয় এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত থেকে।

আর বাকি সবই এবং তাদের দেখভাল করার জন্যে যাদের পালে এই দেশ তারা কি করে সেইটা জানতে ইচ্ছা করে নাকি খুব? তারপরেও রেডিমেড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করা মানুষ এই দেশে দলিত সম্প্রদায়।

এই ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকের একটা বিশাল অংশের কাপড় দেশেই উৎপাদিত। আর এই কাপড়ের একটা বড় অংশের সুতাও এই দেশেই উৎপাদিত। আর এই সুতার কাচামালের একটা বড় অংশই কটন বা তুলা।

আর এই কটনের পুরোটাই আমদানি নির্ভর। কারণ দেশে বানিজ্যিক ভাবে তুলা উৎপাদিত হয় না। এই দেশে তুলা উৎপাদন অসম্ভব না। এমনকি অলাভজনক হওয়ারও কোন কারণ নেই। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাই অনেক। তুলা উৎপাদন উপযোগী জমিও আছে। এমনকি আমাদের একটা তুলা উন্নয়ন বোর্ডও আছে। যারা কিনা ১৯৯১ সাল থেকে কাজ করছে তুলার জাত উদ্ভাবনের এবং তুলা চাষ সম্প্রসারণের এবং ৩০ বছরে তাদের অগ্রগতি? হ্যা, ঠিক ধরেছেন। শূন্যের কাছাকাছি একটা কিছু।

বানিজ্যিক চাষ না হলে সেইটারে অগ্রগতি কিভাবে ধরি? রিসার্চ করে উল্টায়ে ফেললাম কিন্তু সেইটার কোন অর্থনৈতিক ভ্যালু নাই, সেই রিসার্চ দিয়ে আমরা কি করবো?

যদি ১০% তুলার চাহিদাও দেশ থেকে মেটানো যেতো তাহলে আমদানি ব্যয় কমতো, ফরেন রিজার্ভ বাড়তো, ভ্যালু এডিশনও হতো। নিজেদের তুলা হলে ইন্ডাস্ট্রি ফিডব্যাক এর উপর নির্ভর করে তুলার কোয়ালিটি নিয়ে কাজ করা আমাদের জন্যে সহজ হতো।

তুলা আর সুতার সাসটেইনেবিলিটি আর ট্রেসেবিলিটি নিয়ে যে বিপদের খড়গ ঝুলছে পুরো ইন্ডাস্ট্রির মাথায় তা থেকেও খানিকটা রেহাই পাওয়া যেতো। কিন্তু আফসোস কারো যেন এইটা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথাও নেই। এই দেশের নীতি নির্ধারক আর স্টেক হোল্ডারদের জ্ঞান হতে হতে আমরা পাহাড়ের খাদের কিনারায় চলে যাই, তারপর ঝুলে থাকি। তারপর পড়ে যাই। আর তারপর মরে যাই।

তুলার জাত উদ্ভাবন আর তুলা চাষ সম্প্রসারণ করতে করতে এই দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যবসায় লাটে উঠে যাবে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড-
http://www.cdb.gov.bd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *