টেক্সটাইল ফাইবারে বৈশিষ্ট্যসমূহ

টেক্সটাইল ফাইবার কি? 

যে ফাইবারগুলির ন্যূনতম দৈর্ঘ্য, শক্তি, সূক্ষ্মতা, নমনীয়তা এবং আর্দ্রতা ধারণ ক্ষমতা আছে, সংক্ষেপে, যেগুলিতে সুতা তৈরির গুণাবলী বিদ্যমান, তাকে টেক্সটাইল ফাইবার বলে।যেমন: তুলা, পাট, সিল্ক ইত্যাদি।

ভৌত গুনাবলি:

১.আঁশের দৈর্ঘ্য (Fibre Length) : আঁশের দৈর্ঘ্য আঁশের গুণাগুণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি  আঁশ   ব্যাস থেকে কয়েক হাজার গুণ বেশি  হবে দৈর্ঘ্যে সাধারণত  বড় আঁশ অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও শক্ত হয়ে থারে যা দ্বারা উন্নত মানের সুতা তৈরি করা যায়।

দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে আঁশ দুই প্রকার। 

(ক) কন্টিনিউয়াস ফিলামেন্ট ফাইবার 

(খ) স্টাপল ফাইবার

 (ক) কন্টিনিউয়াস ফাইবার (Continuous Fibre ) : দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন আঁশকে কন্টিনিউয়াস ফাইবার বা ফিলামেন্ট বলে ফিলামেন্ট প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উভয় উৎস থেকেই পাওয়া যায় ।

(খ) স্টাপল ফাইবার (Staple Fibre) :

 আঁশ যদি ছোট দৈর্ঘ্যের হয়, তখন তাকে স্টাপল ফাইবার বলে। প্রাকৃতিক আঁশই স্টাপল হিসেবে পাওয়া যায়। তবে যে কোন কৃত্রিম আঁশই স্টাপল আকারে তৈরি করা যায়। তাছাড়া দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে স্টাপল ফাইবারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-

(১) ছোট স্টাপল আঁশ (Short Staple Fibre)  (২) মধ্য স্টাপল আঁশ (Medium Staple Fibre)  

(৩) লম্বা স্টাপল আঁশ (Long Staple Fibre) 

টেক্সটাইল ফাইবারের গুণাবলি

(১) আঁশের শক্তি (Fibre Strength) : একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। যে পরিমাণ বল প্রয়োগে করে আঁশ ছিড়ে যায় তাকেই আঁশের শক্তি বলে। 

(২) ছেড়ার পূর্বে প্রসারণ : আঁশের শক্তির পরিপূরক হিসেবে ইলংগেশন অ্যাট ব্রেক বা ছেড়ার পূর্বে প্রসারণ ব্যবহৃত হয়। কোন একটি তন্তু ছেড়ার মুহূর্তে দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিকে আদি দৈর্ঘ্যের তুলনায় শতকরায় প্রকাশ করলে তাকে Elongation at Break বা ছেড়ার পূর্বে প্রসারণ বলে । 

(৩) সূক্ষ্মতা (Fineness) : যে কোন বস্তুর সূক্ষ্মতা তার ব্যাস বা প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বা একক দৈর্ঘ্যের ওজনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আঁশের একক দৈর্ঘ্যের ওজন দ্বারা সূক্ষ্মতা প্রকাশ করা যায়। 

(৪) স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) : কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগে তার দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি এবং বল অপসারণ করলে দৈর্ঘ্য পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবার ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 

(৫)সুষমতা (Uniformity) : সুষমতা বলতে আঁশের প্রতিটি গুণেরই সমতাকে বোঝায়। যেমন- দৈর্ঘ্য, শক্তি, সূক্ষ্মতা, ইত্যাদি। 

(৬) পানি শোষণ ক্ষমতা (Absorbency) : টেক্সটাইল ফাইবারের আর্দ্রতা বা পানি শোষণ ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। আর্দ্রত শোষণ ক্ষমতা না থাকলে তা আরামদায়ক হয় না। 

রাসায়নিক গুণাবলি:

(১) অম্লের প্রতিক্রিয়া (Effect of Acid) : টেক্সটাইল দ্রব্য ধোয়া বা ব্যবহার করার কাজে অনেক অম্ল ব্যবহার করা হয়। কাজটি বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার আঁশের উপর অম্লের ক্রিয়া সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

(২) ক্ষারের প্রতিক্রিয়া (Effect of Alkalies): কাপড় ধোয়ার কাজে কিংবা কাওয়ারিং, মার্সেরাইজিংসহ বিভিন্ন কাজে কার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কাজেই বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার আঁশের উপর ক্ষারের ক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হওয়া প্রয়োজন।

(৩) ব্লিচ এ ক্রিয়া (Effect of Bleach) : প্রকৃতিগতভাবে কটন কাপড় কোড়া (Grey) থাকে। সে জন্য কোড়া কাপড়কে ধবধবে সাদা করার জন্যই ব্লিচ করা হয়। এতে কাপড়ের সাথে লেগে থাকা সাধারণ দাগও উঠে যায়। কটন ও লিনেন কাপড় ব্লিচিং করার জন্য সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। 

(৪) তাপের প্রতিক্রিয়া (Effects of Heat) : সমস্ত আঁশই তাপ দ্বারা আক্রান্ত হয়। তবে আক্রান্ত হবার ধরন ভিন্ন। তুলা বা পাটের মত কিছু আঁশ আছে যা তাপে গলে না কিন্তু ছাই হয়ে যায়। কিন্তু পলিয়েস্টার, নাইলন ইত্যাদি তাপে গলে যায়। তাপের প্রতি যে কোন টেক্সটাইল দ্রব্যের ক্রিয়া অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- আয়রন করার ক্ষেত্রে যদি কাপড় বিকৃত হয়ে যায় কিংবা নষ্ট হয়ে যায় বে তা খুবই সমস্যার উদ্যেককারী। কাজেই তাপের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত হওয়া উচিত ।

লেখক :

মো : মাসুম ইসলাম 

ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার (৩য়) বর্ষ 

রংপুর সিটি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *