অটোমেশন

টেক্সটাইল শিল্প একটি বৈশ্বিক শিল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। টেক্সটাইলের সার্বজনীনতার কারনে বর্তমান বিশ্বে এটি অধ্যয়নের অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই টেক্সটাইল শিল্পের সাথে লক্ষ লক্ষ লোক জড়িত। টেক্সটাইল পন্যগুলো বিভিন্ন ধরনের ফাইবার, সুতা এবং কাপড় থেকে তৈরি হয়। টেক্সটাইল শিল্পে, একসময় শুধু হাত দিয়ে চালিত এবং সাধারন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হত। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে শুরু করে এবং আজকের এই আধুনিক যুগে নিত্য নতুন চাহিদার দরুন, পন্যের মান উন্নয়ন ও অধিক উৎপাদনের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোর উপর গবেষণা ও মনোনিবেশ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন গবেষক ও উদ্যোক্তারা। বর্তমানে তেমনই একটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে অটোমেশন বা যান্ত্রিকীকরণ।

অটোমেশন কি?

অটোমেশন হচ্ছে একটি বিশেষ যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়া, যেখানে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি, মেশিন ইকুইপমেন্টস ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে, কম সময়ে ও উচ্চ কর্মদক্ষতার সাথে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভবপর হয়। অটোমেশন অর্থাৎ অটোমেটিক কন্ট্রোল এর সাহায্যে বিভিন্ন মেশিন এর সাথে সমন্বয় করে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন সেক্টরে মানুষের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে কম শ্রমিক দিয়ে খুব অল্প সময়ে বেশি টেক্সটাইল পন্য উৎপাদন করা যাচ্ছে। তাই সসহজ কথায় অটোমেশন হচ্ছে যান্ত্রিকীকরণ বা অটোমেটিক ভাবে কাজ গুলো সম্পন্ন করা। টেক্সটাইলের কাঁচামাল যেমন: গাছ থেকে তুলা সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে জিনিং, স্পিনিং, উইভিং/ নিটিং, ডায়িং, প্রিন্টিং ও পোশাক তৈরীতেও এখন অটোমেশনের ব্যবহার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

টেক্সটাইল শিল্পে অটোমেশনের প্রভাবঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে পোশাক শিল্প। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত পরিচিত হতে হচ্ছে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সাথে। বর্তমানে তেমন ই একটি বিষয় হচ্ছে অটোমেশন। তাই পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সম্প্রতি কারখানায় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার শুরু করেছেন৷ 

 বিভিন্ন টেক্সটাইল সেক্টরে টেক্সটাইল অটোমেশনের ব্যবহার:

 ১. স্পিনিং:

 স্পিনিংয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অটোমেশনের ব্যবহার দেখা যায়।  গাছ থেকে তুলা সংগ্রহহ সম্পূর্ণরূপে জনগণের সহায়তায় করা হয়েছিল।  বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমেশনের সাহায্যে গাছ থেকে তুলা সংগ্রহ করা হচ্ছে।  এমনকি জিনিং প্রক্রিয়াটি অটোমেশনের সাহায্যে করা হয়।

 তুলা ফাইবার প্রক্রিয়া যা ২০ বছর আগে করতে ঘন্টা লাগত এখন এই পদ্ধতির সাহায্যে করা হয়।  বিভিন্ন উদ্ভাবন এবং স্বয়ংক্রিয়তা ক্রমাগত অগ্রগতির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।  আগে ব্লো রুমে তুলার বেল মেশানোর জন্য।  মেশিনটি ব্যবহার করা হয়নি।  শ্রমিকরা বড় বড় তুলার বেল খুলে মেশাতেন।  ফলে এটি করতে অনেক সময় লেগেছে।  ব্লোরুমে কটন বেলগুলি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। এটি খোলা থেকে মেশানো পর্যন্ত মেশিনের সাহায্যে করা হয়।

 ফলাফল একবারে অনেকগুলি তুলার বেল খোলা যায়, একই সময়ে তুলা আগের চেয়ে অনেক ভাল এবং সমানভাবে মিশ্রিত হয়।  কার্ডিং মেশিনেও অটোমেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।  ব্লোরুম থেকে যে কোল তৈরি হত

 কর্মীরা ম্যানুয়ালি কার্ডিং মেশিন বসাতেন।  ফলে কোলের গুণে বৈচিত্র্য আসতে পারে।  বর্তমানে কার্ডিং মেশিনে চাট ফিড, অটোলেভেলার ব্যবহার করা হয়।

 ফলস্বরূপ, ব্লোরুমে যে ল্যাপ তৈরি হয় তা এখন সরাসরি কার্ডিং মেশিনে চলে যায়।  এ ছাড়া অটোলেভেলা ব্যবহারের ফলে একই মানের গুণগত মান ও উৎপাদন বেড়েছে।  অটো ব্যবহার এবং সুতার ত্রুটি সনাক্তকরণের ফলে সুতা তৈরি হয়েছে।  মান বাড়ছে।  বর্তমানে, অটোমেশন ব্যবহারের ফলে রিং স্পিন্ডেলের গতি 20,000।  RPM এবং উচ্চ-গতির রটারের গতি 100,000 rpm পর্যন্ত।  বর্তমান স্পিনিং মেশিনগুলি অতীতের মেশিনের তুলনায় 20 গুণ বেশি উত্পাদন করতে সক্ষম।

 ২.ফ্যাব্রিক উত্পাদন:

 অটোমেশন সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ফ্যাব্রিক উত্পাদন এক.  পদ্ধতি।  কম্পিউটার বহুকাল ধরে বয়ন ও বুনন মেশিনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  স্টার্টিং উইভিং অটোমেশন উইন্ডিং, ওয়ার্পিং, সাইজিং এ ব্যবহৃত হয়।  উচ্চ গতি ওয়ার্পিং এর সাহায্যে থ্রেডটি ওয়ার্পিং বিমে খুব দ্রুত পেঁচানো হয়।  এছাড়া সুতোয় কোনো ত্রুটি নেই।যদি থাকে তবে সেন্সরের সাহায্যে খুব দ্রুত শনাক্ত করা হয়।সাইজিং মেশিন ছাড়াও বর্তমানে খুব উন্নত.  উন্নত প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয় শাটল তাঁত, স্বয়ংক্রিয় শাটল লেস তাঁত, ইলেকট্রনিক ডবি, জ্যাকার্ড হেড, অটোমেটিক পিক ফাইন্ডিং, নিডেল সিলেকশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে।  এছাড়াও, ওয়ার্পিং বিমের কোথাও থ্রেড ভেঙে গেলে কম্পিউটারাইজড মেশিন নিয়ন্ত্রণের সাহায্যে এটি করা হয়।

 ৩.ডাইং প্রিন্টিং

ডাইং প্রিন্টি প্রক্রিয়ার রেসিপিতে মিলিগ্রামের পরিমাণ ভুল হলে ফ্যাব্রিকের শেড পরিবর্তন হবে।  বিভিন্ন  যেমন তাপমাত্রা, চাপ, মিশ্রণ সময়, ইত্যাদি রং করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  অটোমেশন ব্যবহার করে রং খুব সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

 ৪.টেক্সটাইল ফিনিশিং:

দীর্ঘদিন ধরে টেক্সটাইল ফিনিশিংয়ে অটোমেশন ব্যবহার করা হলেও সময়ের সাথে সাথে এটি আরও আধুনিক হয়ে উঠছে।  একটি মেশিন কন্ট্রোল সিস্টেম, রোবটাইজড সিস্টেম, কালার অটোমেশন বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

টেক্সটাইলে অটোমেশনের সুবিধা:

১. কম সময়ে বেশি উৎপাদন

২. পণ্যের গুণমান বৃদ্ধি

৩. কম শ্রম মজুরি

৪. একই উত্পাদনের জন্য কাজের সময় হ্রাস করুন: 

৫. উৎপাদন খরচ হ্রাস করুন

৬. শ্রমিকদের জন্য কাজের নিরাপত্তা বৃদ্ধি: 

৭. দক্ষ শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা

টেক্সটাইলে অটোমেশনের অসুবিধা:

১. উচ্চ বিনিয়োগ খরচ

২. গবেষণা এবং উন্নয়নের উচ্চ ব্যয়: 

৩. রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চ খরচ:

৪.বেকারত্ব বৃদ্ধি

লেখক :

মো : মাসুম ইসলাম 

ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল চতুর্থ বর্ষ 

রংপুর সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (RCIT )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *